1. lakituli@gmail.com : admin : Engr. Md. Lakitul Islam
  2. lakitul.umec@gmail.com : Sarder Alamin : Alamin Sarder
বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৩৭ অপরাহ্ন
নোটিশ :
বিভিন্ন জেলা,উপজেলা-থানা,পৈারসভা,কলেজ ও ইউনিয়ন পর্যায় সংবাদকর্মী আবশ্যক ।
সংবাদ শিরনাম :
কুড়িগ্রামে ঘনঘন লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত এস.এস.সি পরীক্ষার্থী, কৃষক, শ্রমজীবী জমি লিখে না দেওয়ায় কুড়িগ্রামে বাবাকে মেরে ঘরে আটকে রাখলেন দুই ছেলে কুড়িগ্রামে শিশু হত্যা তদন্তে নেই অগ্রগতি, সংবাদ সংগ্রহে বাধার মুখে ৩ সাংবাদিক কুড়িগ্রামে বিএনপি নেতার গোয়ালঘর থেকে ড্রামভর্তি পেট্রল উদ্ধার, ১০ হাজার টাকা জরিমানা কুড়িগ্রামের রৌমারীতে মহাসড়ক দখল করে মালামাল রাখায় ২ জনকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা কুড়িগ্রামের রাজারহাটে স্কুলছাত্রীকে আটকে রেখে ধর্ষণ, যুবক গ্রেফতার কুড়িগ্রামে অর্থের প্রলোভনে ধর্মান্তরের অভিযোগ, আটক ২ কুড়িগ্রামে দুই ভারতীয় যুবকসহ এক বাংলাদেশি আটক, ইয়াবা উদ্ধার তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রী পুনরায় বিয়েতে রাজি না হওয়ায় হত্যা, অভিযুক্ত স্বামী কুড়িগ্রামে গ্রেফতার কুড়িগ্রাম প্রেসক্লাবের ২০২৬-২০২৭ মেয়াদের কার্যনির্বাহী পরিষদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা

দারিদ্র্যতার কষাঘাত ভেঙে জিমের এসএসসি’তে জিপিএ-৫

  • প্রকাশিত : সোমবার, ১৪ জুলাই, ২০২৫
ছবি লোড হচ্ছে..........
আনোয়ার সাঈদ তিতু, কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি:-
সোমবার, ১৪ জুলাই ২০২৫ ইং ১২:০১ পিএম.
ঘরের চারপাশে অভাব-অনটনের অন্ধকার। তবু সেই ঘরে জ্বলছে এক আলোকবর্তিকা। কুড়িগ্রাম জেলার ফুলবাড়ীর চিনাবাড়ি গ্রামের শাহ মনি আক্তার জিম। মেরুদণ্ড ভাঙা দারিদ্র্যের ভেতর থেকেও এবারের এসএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ-৫ অর্জন করেছে সে। তার স্বপ্ন, একদিন সে হবে একজন চিকিৎসক। সেবাদানেই খুঁজে নেবে জীবনের সার্থকতা।
জিমের বাবা জহুরুল হক ছিলেন একটি ছোট পানের দোকানের মালিক। সেই দোকানই ছিল তাদের সংসারের একমাত্র আয়ের উৎস। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে মেরুদণ্ডের জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি এখন সম্পূর্ণ কর্মক্ষম নন। প্রতিদিনের ওষুধ কিনতে লাগে প্রায় ২০০ টাকা, যা জোগাড় করতেই হিমশিম খাচ্ছে পরিবার। দোকানটিও এখন বন্ধ। ফলে পরিবারের ছয় সদস্যের জীবনে নেমে এসেছে চরম দুর্দশা।
জিম বলে, “সংসারে অভাব ছিল সবসময়। কিন্তু বাবা-মা আর শিক্ষকদের উৎসাহে আমি মন দিয়ে পড়াশোনা করেছি। আমার স্বপ্ন ডাক্তার হওয়া। মানুষের সেবা করতে চাই। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন।”
তার এই সাফল্য এখন পরিবারের আশার আলো। তবে ভবিষ্যতের চিন্তায় চিন্তিত বাবা-মা। জিমের বাবা বলেন, “মেয়েটা অনেক কষ্ট করে পড়েছে। ও চায় ডাক্তার হতে। কিন্তু আমি তার পড়াশোনার খরচ চালাতে পারবো কি না, জানি না। কেউ যদি পাশে দাঁড়াত, মেয়েটার স্বপ্নটা বেঁচে থাকতো।”
মা রাশিদা বেগম বলেন, “স্বামীর চিকিৎসা আর মেয়ের পড়ালেখা—দুইটাই চালানো আমাদের পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়েছে। সহায়তা না পেলে মেয়ের পড়ালেখা থেমে যাবে, এটা ভাবলেই বুকটা কেঁপে ওঠে।”
জিমের প্রতিবেশীরাও মুগ্ধ তার সাফল্যে।
একজন বলেন, “অভাবের সংসারেও মেয়েটা যেভাবে ভালো রেজাল্ট করেছে, তা অনন্য। কিন্তু সামনে তো আরও অনেক খরচ। যদি কেউ পাশে না দাঁড়ায়, তার স্বপ্ন হয়তো থেমে যাবে।”
ফুলবাড়ী জছি মিঞা মডেল সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবেদ আলী খন্দকার বলেন, “জিম আমাদের বিদ্যালয়ের গরিব ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের মধ্যে অন্যতম। আমরা শিক্ষকরা ব্যক্তিগতভাবে তাকে যতটা সম্ভব সহায়তা করেছি। কিন্তু তার উচ্চশিক্ষার জন্য দরকার বড় পরিসরের সহযোগিতা।”
জিমের মতো অদম্য মেধাবীদের পাশে দাঁড়ানো মানেই একটি পরিবারের নয়, একটি দেশের ভবিষ্যতের পাশে দাঁড়ানো। এই মেয়েটির চোখে যে স্বপ্ন, তা যেন নিভে না যায় অভাবের আঁধারে। তার স্বপ্নপূরণে প্রয়োজন সমাজের দানশীল, সহানুভূতিশীল মানুষদের ভালোবাসা আর সহায়তার স্পর্শ।
একটি মেয়ের চোখের আলোই হতে পারে সমাজের ভবিষ্যতের দীপ্তি। জিম যেন সেই আলো হোক, আমাদের সম্মিলিত সহমর্মিতার সৌরভে।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

‍এই ক্যাটাগরির ‍আরো সংবাদ