আনোয়ার সাঈদ তিতু, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:-
শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ইং ০৭:০০ পিএম.
গাজীপুরে তালাক দেয়া স্ত্রীকে পুনরায় বিয়ের প্রস্তাবে রাজি করাতে না পেরে হত্যার ঘটনায় মূলহোতা সাবেক স্বামীকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-১ ও র্যাব-১৩-এর যৌথ টিম।শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার জলংগারকুটি (বুড়াবুড়ি) গ্রাম থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। র্যাব-১-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) শাহ আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গ্রেফতার মোঃ মাসুদ রানা (৩৮) কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর উপজেলার অনন্তপুরচর ইউনিয়নের জলংগারকুটি (বুড়াবুড়ি) এলাকার ওমর মুন্সির ছেলে।
পুলিশ সুপার (মিডিয়া) শাহ আলম জানান, ভিকটিম রিশমা খাতুন সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার বেড়াকুল গ্রামের আব্দুল হাকিমের মেয়ে। তিনি ডিভোর্সের পর গাজীপুরের জয়দেবপুর থানাধীন মির্জাপুর এলাকায় ভাড়া বাসায় থেকে স্থানীয় মনিপুর এলাকার মেঘা ডেনিম কারখানায় চাকরি করতেন। গত সোমবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সকাল পৌনে ৬টার দিকে কর্মস্থলে যাচ্ছিলেন রিশমা খাতুন। পথে বিকেবাড়ি এলাকার আক্কাছ শিকদারের বাড়ির পাশে পৌঁছালে আসামি মাসুদ রানা তার তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রী মোছাঃ রিশমা খাতুনকে পুনরায় বিয়ের প্রস্তাব দেন। ওই প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় পূর্বপরিকল্পিতভাবে ভিকটিমকে পেছন থেকে ধারালো চাকু দিয়ে পিঠের বাম পাশে আঘাত করে পালিয়ে যান। সহকর্মীরা তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় মনিপুর আল মদিনা হাসপাতালে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক রিশমাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় ভিকটিমের বাবা আব্দুল হাকিম জয়দেবপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
তিনি আরো জানান, ঘটনাটি চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করলে র্যাব-১ (গাজীপুর) মোছাঃ রিশমা খাতুন হত্যার ঘটনার ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং ঘটনার সাথে জড়িত আসামিকে গ্রেফতারের চেষ্টা চালায়। পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় মামলার প্রধান আসামি মোমাসুদ রানাকে কুড়িগ্রামের জলংগারকুটি বুড়াবুড়ি এলাকা থেকে র্যাব-১৩ (রংপুর সদর) ক্যাম্পের সদস্যদের সহায়তায় মাসুদ রানাকে শুক্রবার গ্রেফতার করে যৌথ টিম।
জয়দেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘গৃহবধু পোশাক শ্রমিক রিশমা খাতুন হত্যায় জড়িত গ্রেফতার মাসুদ রানাকে আদালতে পাঠানোর কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’
Leave a Reply